সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া নারী পরিচয়ে প্রথমে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। পরে তা গড়ায় প্রেমে। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনে ‘বিয়ে’ করে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখতে থাকেন ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তি ও ‘সুমাইয়া আক্তার’।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ফাঁস হয় প্রতারণার পুরো রহস্য।
বুধবার সকালে গন্ডবিল গ্রামে শান্ত আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘সুমাইয়া’ আসলে কোনো নারী নন, তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত আলী (২০) নামের এক তরুণ। বিকাশের মাধ্যমে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে তিনি অন্তত তিন লাখ টাকা নেন ওই তরুণ। ভুক্তভোগী ঢাকার বাসিন্দা (৪৮) ওই প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাসচারেক আগে শান্ত ওই প্রবাসীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সম্পর্কের সুযোগে বিভিন্ন অজুহাতে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখেরও বেশি টাকা নেন শান্ত। প্রতারণার বিষয়টি আরো বিশ্বাসযোগ্য করতে শান্ত তার বাবাকে ওই প্রবাসীর সাথে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে কথা বলাতেন।
সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পরবাবা-ছেলেকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্তকে কল করেন ওই ইতালি প্রবাসী। তখন পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এতদিন যার সাথে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন, সেই ‘সুমাইয়া আক্তার’ আসলে একজন পুরুষ।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, গ্রেফতার শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং ও প্রতারণার সাথে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেফতারের পর ইতালি প্রবাসীর সাথে প্রতারণার বিষয়টি জানা যায়।
তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয় বলেও জানান তিনি।
Mytv Online